Skip to main content

Posts

প্রাচীন ট্রয় নগরী

ইতিহাস বলতে আসলে কি বোঝায়? প্রাচীন আমলের কিছু ছবি নাকি ভাঙা কিছু পাত্রের টুকরো? নাকি ইতিহাস বলতে বোঝায় জানা অজানা নানা কাহিনীর মিশেল, যার ফলে আমরা হয়ে উঠি চমকিত, যার ফলে আমাদের মনে জাগে নানা ধরণের প্রশ্ন? প্রত্নতাত্ত্বিকেরা কিংবা বিজ্ঞানীরা কেন ইতিহাস নিয়ে নাড়াচাড়া করেন? বর্তমানের এই উন্নত প্রযুক্তির যুগে ইতিহাসের সাথে বসবাস কি আদৌ কোন প্রয়োজন আছে কি? হ্যাঁ আছে। ইতিহাস থেকে আমরা পাই শিক্ষা, ইতিহাস থেকে আমরা পাই অজানা নানা তথ্য। মিশরের পিরামিডের এত সুউচ্চ পাথরগুলো কি করে প্রাচীন মানুষরা এত উচ্চে নিয়ে গেলেন, তা নিয়ে আজো আমাদের মনে নানা ধরণের প্রশ্ন জাগে। কেমন করে এসব প্রশ্নের জবাব পাব আমরা? এর মাঝেই প্রত্নতাত্ত্বিকেরা তাদের কাজের মাধ্যমে আমাদের সামনে নিয়ে আসেন নতুন নতুন তথ্য। মেলে দেন তথ্যের ঝাঁপি। আজ সে ঝাঁপি থেকেই আপনাদের জন্য আয়োজন। প্রাচীন ট্রয় নগরীর ইতিকথাঃ ট্রয়ঃ পৃথিবীতে যত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান নিয়ে বিতর্ক হয়েছে, ট্রয় নগরী নিঃসন্দেহে তাদের মাঝে প্রথম সারিতে অবস্থান করবে। হোমারের অমর গাঁথা “ইলিয়াড”-এ ট্রয় নগরী নিয়ে বিশদ বর্ণনা দেয়া আছে। এখান থেকেই ট্রয় নগরীর উদ্ভব। ট্রোজা...

বাবর

ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন জাহিরউদ্দিন মহম্মদ জালালউদ্দিন বাবর । বাবরের বয়স  যখন মাত্র ১১ বছর সেই সময় বাবরের পিতা মারা যান । পিতৃহারা হওয়ার পর বাবর পিতৃরাজ্য ফারগানার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন । কিন্তু পরবর্তীতে ফারগানা তাঁর হস্তচ্যুত হয় । একাধিক বার অভিযান চালিয়েও তিনি পিতৃরাজ্য অধিকার করতে ব্যর্থ হন । এরপর বাবর কিছুদিন নানান জায়গায় ঘুরে দিন কাটান । অবশেষে বাবর কাবুল এ উজবেগদের আভ্যন্তরিন বিবাদকে কাজে লাগিয়ে কাবুল দখল করে নেন । মূলত কাবুল দখল করার পরই বাবর ভারত আক্রমণ করার কথা চিন্তা করেন এবং ভারত আক্রমণ করেন । এ পর্বে তিনি ভারত আক্রমণ করলে কান্দাহার কতৃক কাবুল আক্রান্ত হয় । ফলে বাবর ভারত ত্যাগ করে কাবুলে ফিরে যান এবং কান্দাহার দখল করে নিয়ে পুনরায় ভারত আক্রমণ করেন । বাবরের প্রথম ভারত আক্রমণের তারিখ নিয়ে বিতর্ক  আছে । বাবরের আত্মজীবনিতে বলা হয়েছে বাবর প্রথম ভারত আক্রমণ করেন ১৫১৯ সালে কিন্তু আবুল ফজল বলেছেন বাবর প্রথম ভারত আক্রমণ করেন ১৫০৫ সালে । তবে    যাই হোক ১৫২৬ এর আগে বাবর পুরোপুরি ভাবে ভারত দখল একটা পরিকল্পনা নিয়ে ছিলেন , কিন্তু দৌলত খা লো...

ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণাণ

ভারতমাতা অনেক বিশিষ্ট সন্তানের জন্ম দিয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণাণ | ড. রাধাকৃষ্ণাণ ব্যক্তিগতভাবে ছিলেন একজন মহান দার্শনিক এবং শিক্ষাব্রতী, কিন্তু জীবনে চলার পথে তাঁকে ভারতের রাষ্ট্রপতির পদে আসীন হতে হয়েছে | মহাজ্ঞানী তপস্বী সাধক রাধাকৃষ্ণাণ বলেছেন যে, " আমাদের এই জীবন হল সাধনার জন্য | সাধনার পথেই জীবন উৎসর্গ করা প্রয়োজন | " তিনি সাধনাকেই নিজের জীবনের মূলমন্ত্র বলে স্বীকার করে নিয়েছিলেন | এছাড়াও রাধাকৃষ্ণাণ বলেছেন যে, " আমরা আমাদের আরাধ্য দেবতাকে যেমন কখনোই কোনো অশুদ্ধ, নোংরা অশুচি জিনিস নিবেদন করি না, ঠিক তেমনই আমরা, অশুদ্ধ -অশুচি আত্মা আমাদের ভগবানের কাছে নিবেদন করতে পারি না | ভগবানের চরণে আত্মাকে নিবেদন করতে হলে তা শুদ্ধ করে নিতে হবে | তবেই তা হবে নিবেদনের জন্য যোগ্য | তবেই তা হয়ে উঠবে পবিত্র | " রাধাকৃষ্ণাণ বলেছেন, জীবনে চলার পথে মানুষকে নানা চড়াই উৎরাই, ব্যথা - বেদনা, দুঃখ -কষ্ট প্রভৃতির মধ্য দিয়ে যেতে হয় | এরই নাম জীবন | এই পথে চলতে চলতে কখনো হতাশ হয়ে পড়তে নেই | দুঃখকে কখনো জীবনের শাস্তি বলে মনে করতে নেই | বরং বলা যেতে...

কৃষ্ণনগর কলেজের ইতিহাস

কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত প্রথম সারীর একটি কলেজ হল কৃষ্ণনগর মহাবিদ্যালয় | এই কলেজের পরোতে পেরোতে ইতিহাস জড়িয়ে আছে | এই কলেজটির বয়স প্রায়. 170 বছর | কৃষ্ণনগর মহাবিদ্যালয়ের. শুভ উদ্ভোধন ঘটে 1845 সালের 28 নভেম্বর | এখানকার হাতার পাড়ার এক ভাড়া বাড়িতে | তৎকালীন বড়োলার্ট লর্ড হার্ডিঞ্জ 1846 সালের 1 জানুয়ারি এই কলেজের অনুমোদন দেন | এর কিছু সময় পর নদীয়ার মহারাজা শ্রীশচন্দ্র রায় এবং মুর্শিদাবাদের কাশিমবাজারের মহারানি স্বর্ণময়ী কলেজের শতাধিক বিঘা জমি দান করলে স্থানীয় শিক্ষাহিতৈষী ব্যক্তিবর্গের আর্থিক সহযোগিতায় নির্মিত বর্তমান প্রাসাদোপম ভবনে ভাড়া বাড়ি ছেড়ে স্থায়ী ভাবে কলেজ উঠে আসে 1856 সালের 1 জুন | এই মহাবিদ্যালয়ের প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন বিশিষ্ট শেক্সপিয়ার বিশেষজ্ঞ ক্যাপ্টেন ডি.এল. রিচার্ডসন | এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে মি: রকফোর্ট , স্যার রোপার লেথব্রিজ , রায় বাহাদুর জ্যোতিভূষণ ভাদুড়ী, সতীশ চন্দ্র দে, আর. এন. গিলক্রিষ্ট. প্রমুখ যশস্বি শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গ অধ্যক্ষের পদ অলংকৃত করেছেন | এখানকার খাতিনামা অধ্যাপক দের মধ্যে বাবু রামতনু লাহিড়ী , মদনমোহন তর্কালঙ্কার , চিন্তাহরণ চক্রবর্তী , সু...

একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি

"একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি " এটি একটি বাংলা দেশাত্মবোধক গান |গানটির রচনা এবং সুর করেন পিতাম্বর দাস মতান্তরে মুকুন্দ দাস |গানটি বাংলার সর্বকনিষ্ঠ বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু সন্মানে রচিত হয়েছিল | ক্ষুদিরাম ভারত থেকে ব্রিটিশ শাসন উৎখাত করার জন্য সশস্ত্র বিপ্লবে অংশ নিয়ে তিন ব্রিটিশ কে হত্যা করেছিলেন আর সে জন্য 1908 সালের 11ই আগষ্ট ব্রিটিশ সরকার তাঁর ফাঁসি দেয় ...1966 সালে মুক্তি পাওয়া সুভাষচন্দ্র ছবিতে এই গানটি ব্যবহার করা হয়েছিল ...তখন এই গানটি গেয়েছিলেন লতা মাঙ্গেশকর|..... সম্পূর্ণ. গানটি হল --- একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি। হাসি হাসি পরব ফাঁসি দেখবে ভারতবাসী। কলের বোমা তৈরি করে দাঁড়িয়ে ছিলেম রাস্তার ধারে মাগো, বড়লাটকে মারতে গিয়ে মারলাম আরেক ইংলন্ডবাসী। হাতে যদি থাকতো ছোরা তোর ক্ষুদি কি পড়তো ধরা মাগো রক্ত-মাংসে এক করিতাম দেখতো জগতবাসী শনিবার বেলা দশটার পরে জজকোর্টেতে লোক না ধরে মাগো হল অভিরামের দ্বীপ চালান মা ক্ষুদিরামের ফাঁসি বারো লক্ষ তেত্রিশ কোটি রইলো মা তোর বেটা বেটি মাগো তাদের নিয়ে ঘর করিস মা ওদের করিস দাসী দশ মাস দশদিন পরে জন্ম নেব মাসির ঘরে মাগো তখন যদি না চিনতে পা...

নেহেরু পরিবারের গান্ধী পরিবার হওয়ার ইতিহাস

1912 সালের 12. ই সেপ্টেম্বর বোম্বাই এর এক পা র্সি পরিবার জন্ম গ্রহণ করেন ফিরোজ জাহাঙ্গীর ...যার সঙ্গে ভারতের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বিবাহ হয়েছিল এলাহাবাদে ফিরোজের সঙ্গে প্রথম ইন্দিরা গান্ধীর দেখা হয় ...সেখানে ইন্দিরা এবং তাঁর মা কমলার সঙ্গে ফিরোজের ভালো স ম্প র্ক গড়ে ওঠে ....তখন ইন্দিরার বয়স ছিল মাত্র 16 বছর ....ফিরোজ ইন্দিরা কে প্রেম নিবেদন করেন ..কিন্তু কমলা গান্ধী সেই প্রেম নিবেদন খারিজ করে দেন ....1936 সালে কমলা গান্ধী মারা যাবার পর ইন্দিরা একা হয়ে পড়ে ....জহরলাল তখন ইন্দিরা কে বিদেশে পড়াশোনা জন্য পাঠিয়ে দেন ...কিন্তু বিদেশ থেকে জহরলালের কাছে একের পর এক চিঠি আসতে থাকে তাতে লেখা বাবা আমি ফিরোজ কে ভালবাসি .....জহরলাল এতে কিছুটা হতাশ হন ...কারণ পাত্র একজন পারসিক .....আর এই বিবাহ হলে খবরের কাগজে নানা কথা লেখা হতে পারে ...তাই কোনো উপায় না দেখে জহরলাল মহা ত্মা গান্ধীর কাছে যান .....গান্ধীজি তখন সব কথা শুনে ফিরোজ কে দত্তক নেন নিজের পুত্র হিসাবে ....যার ফলস্বরূপ ফিরোজ জাহাঙ্গীর হয়ে যায় ফিরোজ গান্ধী .তারপর ইন্দিরা গান্ধীর বিবাহ হয় ফিরোজ গান্ধীর সঙ্গে .......
আজ থেকে প্রায় 150 বছর আগে ভারতের বুকে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রথম আলোকশিখা জ্বলে ওঠে কলকাতার উপকন্ঠে ব্যারাকপুরে |  1857 সাল | মার্চ মাস শেষ হয় হয় | শীত সবে বিদায় নিয়েছে | সকালের দিকে এখনও হিমের পরশ | কিছু দূরেই কুল কুল করে বয়ে চলেছে পতিত পাবনী গঙ্গা |  কলকাতার উপকন্ঠে ব্যারাকপুরের এই ক্যান্টনমেন্ট ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান ঘাঁটি | এখান থেকেই বিদ্রোহের ধ্বজা আকাশের বুকে উড়েছিল | মঙ্গল পান্ডে নামের এক সামান্য সিপাই তাঁর হাতের বন্দুক থেকে নিক্ষেপ করেছিলেন মহাবিদ্রোহের প্রথম গুলিটি | মঙ্গল পান্ডের ছেলেবেলা সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যায় না | তবে তিনি ছিলেন উত্তরপ্রদেশের বালিয়া জেলার গোঁড়া এক ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান | উত্তরপ্রদেশের ফৈজাবাদের অন্তর্গত আকবরপুর তহশীলে 1827 সালের 19শে জুলাই মহাবিদ্রোহের অগ্নিশিখা মঙ্গল পান্ডে জন্ম গ্রহণ করেন | তাঁর পিতার নাম ছিল দিবাকর পান্ডে | মঙ্গলের একটি বোন ছিল | 1830 সালে এক দূর্ভিক্ষে তার অকাল মৃত্যুহয় | দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত পান্ডে পরিবার বাধ্য হয়ে কিশোর মঙ্গলকে ইংরেজদের সেনা ছাঁউনিতে পাঠিয়েছিল | ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্প...