Skip to main content

Posts

Showing posts with the label ইউরোপের ইতিহাস

রেনেসাঁ যুগের বিজ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক বিপ্লব

রেনেসাঁ যুগে শুধুমাত্র সাহিত্য, ভাস্কর্য, চিত্রকলা ইত্যাদির ক্ষেত্রেই বিপ্লব আসেনি, বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও আমূল পরিবর্তন তথা বিপ্লবিক চিন্তাধারার বিকাশ ঘটে । উদ্ভিদবিদ্যা , প্রাণিবিদ্যা, ভূগোল ইত্যাদি সবকিছুতেই নতুনত্বের গন্ধ ছড়ায়। মহাকাশ বিদ্যা তথা জ্যোতির্বিদ্যার নবযুগ শুরু হয় । Hale বলেছেন ষোড়শ শতাব্দীর শেষদিকে রেনেসাঁস পর্বের বিজ্ঞানে অনুসন্ধিৎসার এক নব যুগ শুরু হয় । কোপার্নিকাসের ব্যাখ্যা ও তার উত্থান আমরা এই সময়ই দেখি । রেনেসাঁ পর্বে ভূগোলের উন্নতির মধ্য দিয়ে নতুন নতুন দেশ আবিষ্কার করার এক উদ্দাম চেষ্টা শুরু হয়। বার্থালোমিউ দিয়াজ, কলম্বাস, ভাস্কো দা গামা, ভেসপুচি, ফার্দিনান্দ ম্যাগলান প্রমুখের আবিষ্কার পৃথিবীর পুরনো মানচিত্রের পরিবর্তন করে নতুন মানচিত্রের সৃষ্টি করেছিল। সেই মানচিত্রের মধ্যে এমন এমন দেশের নাম যুক্ত হয় যেগুলি সম্পর্কে পূর্বে কোন ধারনাই ছিল না ।  ষোড়শ শতাব্দীর বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার জ্যোতির্বিদ্যাকে নতুন ব্যাখ্যা দেয় । এতদিন পর্যন্ত টলেমীয় তত্ত্ব শ্রদ্ধার সঙ্গে গৃহীত হচ্ছিল , এর একটা কারণ ছিল চার্চের ধারণার সঙ্গে অনেকটা সঙ্গতিপূর্ণ ছিল টলেমীর ব্যবস্থা । ষো...

বৈজ্ঞানিক বিপ্লব - প্রথম পর্ব

        কোপার্নিকাস আকাশ দেখছেন , ছবির সৌজন্যে: উইকিপিডিয়া  পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষ থেকেই ইউরোপের বিজ্ঞানের জগতে নতুন চেতনার উদ্ভব করতে থাকে ‌। এক্ষেত্রে গ্রিক এবং আরবীয় বিজ্ঞান চর্চা ইউরোপের এই বিজ্ঞানের জগতের উন্নতির ক্ষেত্রে একটা বড় ভূমিকা নিয়েছিল । ইউরোপের বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের দুটি দিক রয়েছে । একদিকে এটি যেমন বিজ্ঞানের ব্যবহারিক জগতে এক বিপুল পরিবর্তন এসেছিল ঠিক অন্যদিকেই বিজ্ঞান দর্শনের ক্ষেত্রে পূর্বের চিন্তাধারার মধ্যেও এক বিপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেছিল ।  সমগ্র ষোড়শ ও সপ্তদশ শতাব্দী জুড়ে ইউরোপের এই বিজ্ঞান বিপ্লব চলতে থাকে এবং ধীরে ধীরে এর শক্তি বৃদ্ধি হতে থাকে যা পরবর্তী পর্যায়ে ইউরোপের শিল্প বিপ্লবের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিল । অর্থাৎ আমরা বলতে পারি ইউরোপের শিল্প বিপ্লবের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক বিপ্লবেরও একটা বড় অবদান রয়েছে। মহাবিশ্ব ও মানব শরীর এই সময় বিজ্ঞান গবেষণার মূল কেন্দ্রে চলে আসে । আলোচনা হতে থাকে জড় পদার্থের সঙ্গে বিশ্বের সম্পর্কের বিষয়টি, অর্থাৎ প্রকৃতি বিজ্ঞানচর্চার আগ্রহ বৃদ্ধি ঘটে । আবার এর সাথে চলতে থাকে প্রাকৃতিক এবং স্বর্গীয় ব...

ইউরোপের ধর্মসংস্কার আন্দোলনে মার্টিন লুথারের ভূমিকা

মার্টিন লুথার, ছবির সৌজন্যে : উইকিপিডিয়া রেনেসাঁস শুধু ইউরোপের মনোজগতেই উত্তরণ করেছিল তা নয় সে স্পর্শ করেছিল ধর্মীয় জগৎকেও এবং প্রশস্ত করেছিল ধর্মসংস্কার বা রিফরমেশনের পথ। এই ধর্মসংস্কার আন্দোলনে একাধিক ব্যক্তিবর্গ যুক্ত ছিলেন, তারা তাদের কৃতকার্যের দ্বারা এই Reformation-কে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।  মাটির লুথার ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম একজন। মার্টিন লুথার তার ধর্মীয় মতবাদের জন্য অনেকটা ঋণী ছিলেন উইলিয়াম ওকাম নামক এক ব্যক্তির নিকট। এছাড়া তার মতবাদে সেন্ট অগাস্টাইনের প্রভাবও কিছু রয়েছে । লুথার উচ্চশিক্ষা লাভ করে করেন উইটেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে , পরবর্তীকালে তিনি এখানে ধর্মতত্ত্বের অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন । ১৫১৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি উইটেনবার্গ চার্চের দরজায় ক্ষমারপত্রের বিরুদ্ধে ৯৫ টি দফা তত্ত্ব ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন । এই সময় আধ্যাত্মিক সংকট অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়েছিল। ক্যাথলিক চার্চের পোপ, বিশপ, আর্চ বিশদ- এরা অত্যন্ত একঘেয়েমি জীবন-যাপন করছিল। পোপ এতটাই বিলাস ভোগী হয়ে উঠেছিলেন যে তার প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। এমন সময় অর্থ সংগ্রহের দাবিতে পোপ ইন্ডালজেন্স /...

ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকে ইউরোপে কিভাবে ব্যাংকিং/ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল ?

     আমস্টারডামের পুরনো টাউন হল , সৌজন্যে : উইকিপিডিয়া ইউরোপে পনেরো শতকের বহু আগে থেকেই ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে ঋণ দেওয়া নেওয়া অঙ্গানিকভাবে জড়িয়ে ছিল । ব্যাংক গড়ে ওঠার মূল কারণই ছিল ব্যবসাদার সংস্থাগুলির সেবা ও সহযোগিতা । ১৬৯৪ খ্রিস্টাব্দে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড নামে একটি সরকারি ব্যাংক পত্তনের আগে সরকারি ব্যাংকগুলি কেবল অর্থের আমানত আর সংস্থানের কাজ করতো। ঋণ বা আগাম দেওয়া অথবা শেয়ারের কাগজপত্রের কারবার করা- এসব করত না।  তাই এইসব কাজকর্ম ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ব্যাংকগুলি শুরু করতে থাকে।  ১৩০০ খ্রিস্টাব্দের আগে পরে ব্যাংকের কাজকর্ম করা আর ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছিল ফ্লোরেন্স। ফ্লোরেন্সের সংস্থাগুলির সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব এই যে সুদূর ইংল্যান্ডের ওপরেও তারা নিজের আধিপত্য কায়েম করতে পেরেছিল । ফ্লোরেন্সের বিখ্যাত ব্যাংকিং পরিবারগুলি হল মেদিচি, বার্দি, পেরুজ্জি প্রভৃতি। এর মধ্যে মেদিচি নিঃসন্দেহে বিখ্যাত ছিল ।  ইউরোপীয় রাজারা নানা কারণে যথা প্রশাসন, সৈন্যবাহিনী, যুদ্ধ ইত্যাদির জন্য তারা এই সমস্ত ব্যাংকিং পরিবার গুলির কাছ থেকে ঋণী নিতেন ।...

রেনেসাঁস শিল্পকলার প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য কি ছিল ?

দ্যা বার্থ অফ ভেনাস , source: Wikipedia রেনেসাঁস বা নবজাগরণ ইউরোপে এক নতুন ধরনের সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল । এই সমাজ ব্যবস্থার শ্রেষ্ঠ অবদান ছিল শিল্পের ক্ষেত্রে । বত্তিচেল্লি, মাইকেল এঞ্জেলো, রাফায়েল, দোনাতেলা, দা ভিঞ্চি প্রমূখ শিল্পীরা ছিলেন রেনেসাঁস শিল্পের সঙ্গে জড়িত । রেনেসাঁ শিল্পের লক্ষ্যে মানবতাবাদের কথা বলেছিল এবং ক্লাসিক যুগ বা ধ্রুপদী যুগের গাম্ভীর্য প্রথা ও একঘেয়েমিকে পেছনে ফেলেছিল । ল্যান্ডস্কেপের ব্যবহার, দিগন্তের নতুন নতুন আঙ্গিক, ফর্মের বাস্তবতা প্রভৃতি দেখা গিয়েছিল।  রেনেসাঁস শিল্প যথার্থই secular বা ধর্মনিরপেক্ষ  ছিল কিনা সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে । অন্তত রেনেসাযুগের পেইন্টিং বা চিত্রকলার উপর খ্রিস্ট ধর্মের যথেষ্ট প্রভাব লক্ষ্য করা যায় । প্রধানত এই প্রভাবেই আলোচ্য পর্বে শিল্পে অঙ্কিত হয়েছিল ক্রুশবিদ্ধ যীশু, পিতেতা, ম্যাডোনা, বিভিন্ন খ্রিস্ট ধর্মীয় সম্পদের প্রতিকৃতি এবং অন্যান্য ধর্মীয় দৃশ্য । অবসর পাশাপাশি বহু ধর্মনিরপেক্ষ মানবিক দৃশ্যও দেখা যায়। এগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল দৈনন্দিন জীবনের বহু চিত্র, অসমস্যা সুন্দর বা নিতান্তই সাধারণ দর্শনীয় নরন...

আদি সমাজতন্ত্র বাদী বা কাল্পনিক সমাজতন্ত্র লেখক- সুমন্ত ঘোষ

সমাজতন্ত্রবাদ একটি বিশেষ অর্থনৈতিক মতবাদ শিল্প বিপ্লবের প্রসারের সাথে সাথে বিভিন্ন দেশে কয়েকজন খ্যাতনামা সমাজতান্ত্রিক এর আবির্ভাব হয় । এই সমস্ত সমাজতান্ত্রিক কল্পনা করেছিলেন এমন এক সমাজ ব্যবস্থার যেখানে সকলেই নিজ নিজ যোগ্যতা অনুসারে কাজ করবে এবং সকলের শ্রম থেকে পাওয়া আয় সকলের মধ্যে ন্যায্যভাবে বন্টন করা হবে। মূলত এই মতবাদ প্রচলিত গণতন্ত্রবাদের মূলে কুঠারাঘাত করে যৌথ বা সামাজিক নিয়ন্ত্রণ এর ভিত্তিতে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পথ নির্দেশ করে সেটাই সমাজতন্ত্রবাদ । সমাজতন্ত্রবাদীদের মধ্যে তত্ত্বগত মতভেদ আছে। মাক্স পূর্ববর্তী সমাজতন্ত্রবাদীদের আদি সমাজতন্ত্র বাদী বলা হয়। যাদের utopian বা অবাস্তব আদর্শবাদী বলে আখ্যায়িত করেছেন। এই আদি সমাজতন্ত্রবাদীদের মধ্যে একজন ছিলেন ইংল্যান্ডের রবার্ট ওয়েন। প্রথম জীবনে তিনি ছিলেন ম্যানচেস্টারের একটি কাপড়ের কলের ম্যানেজার। ম্যানেজার হিসেবে তিনি যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দেন। কিন্তু factory প্রথার যাবতীয় কুফল দেখে তিনি শ্রমিকশ্রেণীর উন্নতি সাধনে তার জীবনের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেন। নিউ ল্যানার্কে একটি আদর্শ শিল্পনগর স্থাপন করে শ্রমিক সাধারণের সর্বপ্রক...

ইউরোপের বৈজ্ঞানিক বিপ্লব কতটা 'বৈপ্লবিক' ছিল? লেখক: সুমন্ত ঘোষ

ইউরোপের বৈজ্ঞানিক বিপ্লব যে কত দূর পর্যন্ত বৈজ্ঞানিক হয়ে উঠেছিল তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। মূলত এই সময় মানুষের সমালোচনামূলক চিন্তা-ভাবনা ও অনুসন্ধিতসা সত্বেও বিজ্ঞানচেতনা যে সবক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটাতে পেরেছিল তা বলতে একটু দ্বিধা বোধ হয়। কারণ এইসময় বৈজ্ঞানিকগন জগৎ ও বিশ্বভ্রম্মান্ড নিয়ে আলোচনা করলেও তারা সেগুলির যুক্তি পূর্ণ ব্যাখ্যা দিতে অনেক সময় অক্ষম হতেন। তবে উল্লেখ করা দরকার গ্যালিলিও, কোরারনিকাস- এ সম্বন্ধে কিছু যুক্তি পূর্ণ ব্যাখ্যা দিতে অবশ্যই সক্ষম হয়েছিলেন।  বৈজ্ঞানিক বিপ্লব 'বৈপ্লবিক' পর্যায়ে রূপান্তরের ক্ষেত্রে আমরা আরেকটা বাধা লক্ষ্য করতে পারি, সেটা হলো বৈজ্ঞানিকগণের অনেকাংশই জ্যোতিষশাস্ত্রের ওপর গুরুত্বারোপ করত। তারা মনে করত জ্যোতিষশাস্ত্র এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান ছিল প্রায় সমর্থক। মূলত এই ধারণাই বৈজ্ঞানিক বিপ্লবকে বৈপ্লবিক ধারায় রূপান্তরের পরিপন্থী ছিল। তবে এক্ষেত্রে আমরা একজন ব্যতিক্রমী মনীষীকেউ দেখতে পারি যিনি তার আবহাওয়া সংক্রান্ত তত্ত্ব দ্বারা এই ভ্রান্ত জ্ঞান অর্থাৎ জ্যোতিষশাস্ত্রের অসারতার দিকে আঙ্গুল নির্দেশ করেছিলেন। ইনি আর কেউ নন, ইনি হলেন রেনেসাঁ...