Skip to main content

Posts

বৈজ্ঞানিক বিপ্লব - প্রথম পর্ব

        কোপার্নিকাস আকাশ দেখছেন , ছবির সৌজন্যে: উইকিপিডিয়া  পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষ থেকেই ইউরোপের বিজ্ঞানের জগতে নতুন চেতনার উদ্ভব করতে থাকে ‌। এক্ষেত্রে গ্রিক এবং আরবীয় বিজ্ঞান চর্চা ইউরোপের এই বিজ্ঞানের জগতের উন্নতির ক্ষেত্রে একটা বড় ভূমিকা নিয়েছিল । ইউরোপের বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের দুটি দিক রয়েছে । একদিকে এটি যেমন বিজ্ঞানের ব্যবহারিক জগতে এক বিপুল পরিবর্তন এসেছিল ঠিক অন্যদিকেই বিজ্ঞান দর্শনের ক্ষেত্রে পূর্বের চিন্তাধারার মধ্যেও এক বিপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেছিল ।  সমগ্র ষোড়শ ও সপ্তদশ শতাব্দী জুড়ে ইউরোপের এই বিজ্ঞান বিপ্লব চলতে থাকে এবং ধীরে ধীরে এর শক্তি বৃদ্ধি হতে থাকে যা পরবর্তী পর্যায়ে ইউরোপের শিল্প বিপ্লবের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিল । অর্থাৎ আমরা বলতে পারি ইউরোপের শিল্প বিপ্লবের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক বিপ্লবেরও একটা বড় অবদান রয়েছে। মহাবিশ্ব ও মানব শরীর এই সময় বিজ্ঞান গবেষণার মূল কেন্দ্রে চলে আসে । আলোচনা হতে থাকে জড় পদার্থের সঙ্গে বিশ্বের সম্পর্কের বিষয়টি, অর্থাৎ প্রকৃতি বিজ্ঞানচর্চার আগ্রহ বৃদ্ধি ঘটে । আবার এর সাথে চলতে থাকে প্রাকৃতিক এবং স্বর্গীয় ব...

ইউরোপের ধর্মসংস্কার আন্দোলনে মার্টিন লুথারের ভূমিকা

মার্টিন লুথার, ছবির সৌজন্যে : উইকিপিডিয়া রেনেসাঁস শুধু ইউরোপের মনোজগতেই উত্তরণ করেছিল তা নয় সে স্পর্শ করেছিল ধর্মীয় জগৎকেও এবং প্রশস্ত করেছিল ধর্মসংস্কার বা রিফরমেশনের পথ। এই ধর্মসংস্কার আন্দোলনে একাধিক ব্যক্তিবর্গ যুক্ত ছিলেন, তারা তাদের কৃতকার্যের দ্বারা এই Reformation-কে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।  মাটির লুথার ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম একজন। মার্টিন লুথার তার ধর্মীয় মতবাদের জন্য অনেকটা ঋণী ছিলেন উইলিয়াম ওকাম নামক এক ব্যক্তির নিকট। এছাড়া তার মতবাদে সেন্ট অগাস্টাইনের প্রভাবও কিছু রয়েছে । লুথার উচ্চশিক্ষা লাভ করে করেন উইটেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে , পরবর্তীকালে তিনি এখানে ধর্মতত্ত্বের অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন । ১৫১৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি উইটেনবার্গ চার্চের দরজায় ক্ষমারপত্রের বিরুদ্ধে ৯৫ টি দফা তত্ত্ব ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন । এই সময় আধ্যাত্মিক সংকট অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়েছিল। ক্যাথলিক চার্চের পোপ, বিশপ, আর্চ বিশদ- এরা অত্যন্ত একঘেয়েমি জীবন-যাপন করছিল। পোপ এতটাই বিলাস ভোগী হয়ে উঠেছিলেন যে তার প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। এমন সময় অর্থ সংগ্রহের দাবিতে পোপ ইন্ডালজেন্স /...

ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকে ইউরোপে কিভাবে ব্যাংকিং/ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল ?

     আমস্টারডামের পুরনো টাউন হল , সৌজন্যে : উইকিপিডিয়া ইউরোপে পনেরো শতকের বহু আগে থেকেই ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে ঋণ দেওয়া নেওয়া অঙ্গানিকভাবে জড়িয়ে ছিল । ব্যাংক গড়ে ওঠার মূল কারণই ছিল ব্যবসাদার সংস্থাগুলির সেবা ও সহযোগিতা । ১৬৯৪ খ্রিস্টাব্দে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড নামে একটি সরকারি ব্যাংক পত্তনের আগে সরকারি ব্যাংকগুলি কেবল অর্থের আমানত আর সংস্থানের কাজ করতো। ঋণ বা আগাম দেওয়া অথবা শেয়ারের কাগজপত্রের কারবার করা- এসব করত না।  তাই এইসব কাজকর্ম ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ব্যাংকগুলি শুরু করতে থাকে।  ১৩০০ খ্রিস্টাব্দের আগে পরে ব্যাংকের কাজকর্ম করা আর ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছিল ফ্লোরেন্স। ফ্লোরেন্সের সংস্থাগুলির সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব এই যে সুদূর ইংল্যান্ডের ওপরেও তারা নিজের আধিপত্য কায়েম করতে পেরেছিল । ফ্লোরেন্সের বিখ্যাত ব্যাংকিং পরিবারগুলি হল মেদিচি, বার্দি, পেরুজ্জি প্রভৃতি। এর মধ্যে মেদিচি নিঃসন্দেহে বিখ্যাত ছিল ।  ইউরোপীয় রাজারা নানা কারণে যথা প্রশাসন, সৈন্যবাহিনী, যুদ্ধ ইত্যাদির জন্য তারা এই সমস্ত ব্যাংকিং পরিবার গুলির কাছ থেকে ঋণী নিতেন ।...

রেনেসাঁস শিল্পকলার প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য কি ছিল ?

দ্যা বার্থ অফ ভেনাস , source: Wikipedia রেনেসাঁস বা নবজাগরণ ইউরোপে এক নতুন ধরনের সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল । এই সমাজ ব্যবস্থার শ্রেষ্ঠ অবদান ছিল শিল্পের ক্ষেত্রে । বত্তিচেল্লি, মাইকেল এঞ্জেলো, রাফায়েল, দোনাতেলা, দা ভিঞ্চি প্রমূখ শিল্পীরা ছিলেন রেনেসাঁস শিল্পের সঙ্গে জড়িত । রেনেসাঁ শিল্পের লক্ষ্যে মানবতাবাদের কথা বলেছিল এবং ক্লাসিক যুগ বা ধ্রুপদী যুগের গাম্ভীর্য প্রথা ও একঘেয়েমিকে পেছনে ফেলেছিল । ল্যান্ডস্কেপের ব্যবহার, দিগন্তের নতুন নতুন আঙ্গিক, ফর্মের বাস্তবতা প্রভৃতি দেখা গিয়েছিল।  রেনেসাঁস শিল্প যথার্থই secular বা ধর্মনিরপেক্ষ  ছিল কিনা সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে । অন্তত রেনেসাযুগের পেইন্টিং বা চিত্রকলার উপর খ্রিস্ট ধর্মের যথেষ্ট প্রভাব লক্ষ্য করা যায় । প্রধানত এই প্রভাবেই আলোচ্য পর্বে শিল্পে অঙ্কিত হয়েছিল ক্রুশবিদ্ধ যীশু, পিতেতা, ম্যাডোনা, বিভিন্ন খ্রিস্ট ধর্মীয় সম্পদের প্রতিকৃতি এবং অন্যান্য ধর্মীয় দৃশ্য । অবসর পাশাপাশি বহু ধর্মনিরপেক্ষ মানবিক দৃশ্যও দেখা যায়। এগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল দৈনন্দিন জীবনের বহু চিত্র, অসমস্যা সুন্দর বা নিতান্তই সাধারণ দর্শনীয় নরন...

ভারতের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-উত্তর || কুইজ || Quiz

*সব প্রশ্নের উত্তর শেষে দেওয়া আছে  ১) হরপ্পার সভ্যতার লোকেরা কোন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য করতো ?  A) চীন B) ইরান  C) রাশিয়া  D) সুমের  ২) মেগাস্থিনিস কে ছিলেন ?   A) সেলুকাসের দূত B) চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী C) গ্রীক পরিব্রাজক D) চীনা ভ্রমণকারী ৩) ভারতের ইতিহাসের কোন যুগের লোক ছিলেন আর্যভট্ট ও বরাহমিহির ?  A) মৌর্য যুগ B) গুপ্ত যুগ C) পাল যুগ D) দিল্লি সুলতানি ৪) রাজতরঙ্গিনী কার লেখা ? A) কৌটিল্য B) মেগাস্থিনিস C) কলহন D) এঁদের কেউই নন ৫) এলাহাবাদ প্রশস্তি কে রচনা করেছিলেন ?   A) অশ্বঘোষ B) নাগার্জুন C) হরি সেন D) বসু মিত্র ৬) বুদ্ধ কোথায় তার বাণী প্রথম প্রচার করেছিলেন ? A) কুশিনগর B) বুদ্ধগয়া C) কাশি D) সারনাথ ৭) আলেকজান্ডার কতদিন ভারতে ছিলেন ?  A) ১৬ মাস B) ১৯ মাস C) ২০ মাস D) ২৪ মাস E) ২৭ মাস ৮) কে আমিত্রাঘাত নামে পরিচিত ছিলেন ? A) বিম্বিসার B) বিন্দুসার C) অশোক D) কালাশোক ৯) ভারতীয় টাকায় যে সিংহমূর্তি ছাপা থাকে তা কোথায় আবিষ্কৃত হয়েছিল?  A) কুশীনগর B) সাঁচি C) বুদ্ধগয়া D) সারনাথ  ১০) দিল্লির কোন সুলতান একটি অশোক স্ত...

হরপ্পা সভ্যতা Mock Test

  1) সর্বপ্রথম হরপ্পার কথা কে পন্ডিত মহলের গোচরে আনেন ?  - চার্লস ম্যাসন, ১৮২৬ খ্রিস্টাব্দে ২) হরপ্পার গ্রামীণ সভ্যতার নাম কি ?  - মেহেরগড় সভ্যতা ৩) কে মেহেরগড় সভ্যতা আবিষ্কার করেন এবং কত সালে ? - জেন ফ্রাসোয়া জারিজ ও রিচার্ড মিডো , ১৯৭৪ সালে  ৪) হরপ্পা সভ্যতার অপর নাম কি ?  - সিন্ধু সভ্যতা । কারণ এর বেশিরভাগ প্রশ্ন ক্ষেত্রে সিন্ধু নদের উপত্যকায় পাওয়া যায় । ৫) কে হরপ্পা প্রত্নক্ষেত্রটি আবিষ্কার করেন ?  - দয়ারাম সাহানি 1921 সালে হরপ্পা প্রত্নক্ষেত্রটি আবিষ্কার করেন।  ৬) মহেঞ্জোদাড়ো প্রত্নক্ষেত্রটি কে আবিষ্কার করেন?  - রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে  ৭) হরপ্পা সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ নগরগুলি কি কি ? - হরপ্পা, মহেঞ্জোদাড়ো, কালিবঙ্গান, লোথাল, চানহুদার,  রোপার,  কোট ডিজি, বানোয়ালী, আমরি, ধৌলাবীরা, কুন্টাসি, আল্লাহদিনো, বালাকোট, কুনাল, মান্ডা, নৌশারো, সুরকোটাডা ইত্যাদি।  ৮) হরপ্পা কোথায় অবস্থিত ?  - পাকিস্তান পাঞ্জাবের মন্টগোমারি জেলায় । ৯) মহেঞ্জোদারো কোথায় অবস্থিত?  - সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় ...

আধুনিক ভারতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ লেখক ও তাদের গ্রন্থসমূহ

স্বামী বিবেকানন্দ : বর্তমান ভারত,  প্রাচ্য প্রাশ্চাত্য, ভাবার কথা, কর্মযোগ, রাজযোগ, পরিব্রাজক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর : বর্ণপরিচয়, শকুন্তলা, সীতার বনবাস, ভ্রান্তিবিলাস, বোধদয়, কথামালা, বেতাল পঞ্চবিংশতি, উপক্রমণিকা, বাংলার ইতিহাস, ব্যাকরণ কৌমুদী রমেশচন্দ্র দত্ত : রাজপুত জীবনসন্ধ্যা, বঙ্গ বিজেতা, মাধবীকঙ্কন, মহারাষ্ট্রের জীবনপ্রভাত, ইকোনোমিক হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়া ইন দা ভিক্টোরিয়ান এজ  কেশবচন্দ্র সেন : নব সংহিতা, জীবনবেদ অরবিন্দ ঘোষ : সাবিত্রী, ভবানী মন্দির, মাদার ইন্ডিয়া, লাইফ ডিভাইন, এসেস অফ গীতা, নিউ ল্যাম ্প ফর ওল্ড  দাদাভাই নৌরোজি : প্ভার্টি অ্যান্ড আনব্রিটি রুল ইন ইন্ডিয়া গোপালকৃষ্ণ গোখলে : ইন্ডিয়া আন্ডার দা ব্রিটিশ সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি : এ নেশনস ইন মেকিং বিপিনচন্দ্র পাল : সোল অফ ইন্ডিয়া, স্বদেশী ও স্বরাজ দীনেশ ওয়াচা : সেল ফ্রম দা স্যান্ড অফ বোম্বে ফিরোজ শাহ মেহতা : অরিজিন অফ দ্য মডারেট মুভমেন্ট উমেশচন্দ্র ব্যানার্জি : introduction to the indian politics লালা লাজপৎ রাই : আনহ্যাপি ইন্ডিয়া, কল টু ইয়ং ইন্ডিয়া, ইংল্যান্ড ডেবট টু ইন্ডিয়া উইলিয়াম ...